ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বসহ পুরো মানবজাতির যৌথ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় তুরস্ক আন্তর্জাতিক সব প্ল্যাটফর্মে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে এরদোয়ান বলেন, ২০২৬ সালে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও ধ্বংসের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিকে ‘পদ্ধতিগত দখলদারিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচনার বাইরে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না।
এরদোয়ান ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি গাজার পুনর্গঠন দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি আল-আকসা মসজিদসহ জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর বর্তমান মর্যাদা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান এরদোয়ান।