দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে এ বছরই সর্বোচ্চ বাজেট: প্রধানমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে বাজেট আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে কেউ ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে। শিক্ষার্থীদের বইবিমুখতা ঠেকাতে আনন্দময় শিক্ষা ও আধুনিক শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের কারণে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানের গুরুত্ব বেড়েছে। তাই শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং শিক্ষকের সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকতা পেশাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতাকে পছন্দের পেশা হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতার জন্য যাতে অফিসে অফিসে ঘুরতে না হয়, যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মমুখী শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য কর্মসংস্থান নয়। নৈতিকতা, চরিত্র গঠন, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মান—এসব মূল্যবোধও শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

Related posts

দল বাঁচাতে শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান আওয়ামী লীগের তৃণমূলের

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ৬০০ ছাড়াল

চাঁদাবাজদের তালিকা করা হচ্ছে : র‍্যাব