জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, দুই মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। প্রয়োজনে সেই মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। মানুষের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এসব পরিস্থিতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। অন্যদিকে জ্বালানিমন্ত্রীও নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, দেশে এক স্বৈরাচারের পতনের পর নতুন স্বৈরাচারের উত্থান ঘটছে। বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে অতীত ও বর্তমান—উভয় স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এনসিপির এই নেতা।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও জাতীয় স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। সীমান্ত হত্যা, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভারতের চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না। জাপান সফরে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে করিডর দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের কোনো করিডর জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে নবায়ন না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিজয়ের আশাও প্রকাশ করেন।
সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, কলকাতার তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম অনেক বেশি। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে জ্বালানিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবি জানান। এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন। এতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়কে তাঁদের অবস্থানের কারণে এলাকায় ব্যাপক জমায়েত সৃষ্টি হয়।