ট্রাম্পকে ‘বিপজ্জনক ও উন্মাদ’ বললেন কংগ্রেসম্যান টিম কেনেডি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বিপজ্জনক ও উন্মাদ’ আখ্যা দিয়েছেন নিউইয়র্কের ২৬তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি টিম কেনেডি। ইরানে যুদ্ধ শুরু, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার উদ্যোগ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। কেনেডির অভিযোগ, ট্রাম্পের নীতির কারণে মার্কিন পরিবার, কৃষক ও পরিবহন খাতের মানুষকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের উদ্যোগ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন কেনেডি। তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছেন, যেটি কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের সাত মাস পরও ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ওপরে রয়েছে।

কেনেডি বলেন, ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কের পরিবার, কৃষক ও পরিবহন খাতে জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প সম্পর্কে কেনেডি বলেন, তিনি একজন স্বৈরশাসকের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু মিত্রের পাশে দাঁড়াতে চান না। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে পরিবর্তনের আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভুল দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরেন এই কংগ্রেসম্যান।

মার্কিন অর্থ বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) গত ৯ অক্টোবর জেনারেল লাইসেন্স নম্বর ১৩৫ জারি করে। এর মাধ্যমে রাশিয়ায় উৎপাদিত ডিজেল জ্বালানির বিক্রি, সরবরাহ, খালাস ও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিসংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেগুলো আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।

লাইসেন্সটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত। তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাতীয় সম্পদ তহবিল ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব থেকে অর্থ লেনদেনের অনুমতি এতে দেওয়া হয়নি।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ার পর রুশ জ্বালানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আসে। তবে এ উদ্যোগে মার্কিন বাজারে ডিজেলের দাম কতটা কমবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে কী পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য ছিল গ্যালনপ্রতি প্রায় ৩ ডলার ৭৬ সেন্ট। পরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে দাম বাড়তে থাকে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ডিজেলের গড় মূল্য ছিল ৬ ডলার ২৩ সেন্ট। সেপ্টেম্বরে তা সর্বোচ্চ ৬ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছিল।

এর আগে সেপ্টেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি দাবি করেন, যুদ্ধের কারণে গড় মার্কিন পরিবারের বছরে জ্বালানি ব্যয় ১ হাজার ৪০০ ডলারের বেশি বাড়তে পারে।

এদিকে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ব সমস্যার মুখে পড়েছে এবং ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের নেতৃত্ব কে দেবে, তা নির্ধারণের অধিকার ইউক্রেনের জনগণের।

ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর দিন থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন কেনেডি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে হামলা চালিয়েছে। ৪ মার্চ কংগ্রেসের গোপন ব্রিফিংয়ের পরও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের আসন্ন হুমকির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল বাণিজ্য, ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের অবস্থান ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রুশ ডিজেল আমদানি নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

 

Related posts

আটলান্টিক প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

16 Green Card Holders Arrested Over Alleged False Citizenship Claims and Illegal Voting