ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে করা তেল চুক্তিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে আনা ১০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি ট্যাংকার প্রদর্শন করেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, কে জানে, হয়তো খুব শিগগির দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে উঠবে। এর আগে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে তেল চুক্তি হয়। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকশ কোটি ব্যারেল তেল পাবে এবং এর জন্য মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ বাড়াতে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে। তবে সমালোচকদের মতে, তেল চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয় হলেও ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটিতে নতুন নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপসহ তাঁর পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তিকে নিজের প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প। তবে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর মন্তব্যকে বাস্তব কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।