নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে ভাষণে যা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ফ্লোরিডার পাম বিচ কনভেনশন সেন্টারে তার সমর্থকদের উদ্দেশে দীর্ঘ এক ভাষণে তিনি জানান, একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়া না পর্যন্ত তিনি থামবেন না।

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প তার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমেরিকার জনগণ আমাকে তাদের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই সম্মান আমাকে অসম্ভব গর্বিত করেছে।” তিনি প্রতিটি দিন আমেরিকানদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং নিজের উদ্দেশ্য পূরণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণ চলাকালীন, মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো ট্রাম্পকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিজয়ী ঘোষণা করে, যার মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভানিয়া। এতে তার ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৬৭-এ। এই সংখ্যার ফলে ট্রাম্পের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য মাত্র তিনটি ভোট বাকি থাকে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ইলেক্টোরাল ভোট বর্তমানে ২২৪-এ অবস্থান করছে, যা ট্রাম্পের তুলনায় কম।

ট্রাম্পের ভাষণে পপুলার ভোটে জয়লাভের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমেরিকার জনগণ আমাদের প্রতি একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট প্রদান করেছে। আমরা তাদের আশীর্বাদে আরও সামনে এগিয়ে যাব।” যদিও এখনো অনেক ভোট গণনা চলছে, তবু তিনি পপুলার ভোটে তার বিজয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

ট্রাম্প তার সহ-প্রার্থী জে ডি ভ্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভাষণে ভ্যান্সকে “মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সফল নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেন। ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। ট্রাম্প তার ভাষণের একটি অংশ ইলন মাস্ককে উৎসর্গ করে বলেন, মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ট্রাম্প মাস্ককে “অসাধারণ ব্যক্তি” ও “স্টার” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা তার সমর্থকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

ভাষণে ট্রাম্প সাবেক স্বাধীন প্রার্থী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের প্রতি বিশেষ ইঙ্গিত দেন। স্বাস্থ্যখাতে তার ভূমিকা রাখা নিয়ে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, কেনেডি “আমেরিকাকে আবার সুস্থ করে তুলতে” ভূমিকা রাখতে পারেন। উল্লেখ্য, কেনেডি গত অগাস্টে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্পকে সমর্থন জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্পের বিজয়ের দাবি এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল সামনে এলে তা পুরো জাতিকে স্পষ্ট করবে কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

Related posts

ইরি কাউন্টির ২০২৭ সালের বাজেটে ব্যয় বাড়ছে ৫.৫ শতাংশ

IRS Sets Strict Deadline for Claiming Old Tax Refunds

Queens Ranks Second in NY Foreclosure Risk