প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ১৬ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আটক করার নির্দেশ মানেনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য—এমন অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS)।
তবে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কার্যালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন—এমন কোনো অমার্কিন নাগরিকের বিষয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
হোকুলের এক মুখপাত্র বলেন, “গভর্নর হোকুল স্পষ্ট করেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না।” তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ভিন্ন দাবি করা হলে তা বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার শামিল।
DHS-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে হত্যা থেকে শুরু করে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধ ও দণ্ডাদেশের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি।
রেনসেলার কাউন্টির নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন ম্যাকলাফলিন নিউইয়র্ক প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বলেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্য যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলে তাঁর অভিযোগ।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে দেওয়া ‘২৮৭(g) চুক্তি নিষেধাজ্ঞা’ নিয়েও হোকুল প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন ম্যাকলাফলিন। গত আগস্টে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর সহযোগিতার পরিধি সীমিত করে।
ম্যাকলাফলিনের অভিযোগ, এ ধরনের বিধিনিষেধ নিউইয়র্কের নির্বাচিত শেরিফের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
এ নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রেনসেলার কাউন্টি। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস কাউন্টিটিকে ICE-এর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করার নির্দেশ চেয়ে মামলা করেছেন।
আদালতের নির্দেশ কাউন্টি মেনেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাকলাফলিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, আইনি বিরোধ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালেও তিনি অবাক হবেন না।