বাফেলোর শারম্যান স্ট্রিটে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে সাড়া দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া বাফেলো পুলিশ কর্মকর্তা মার্ক হার্স্টের ঘটনায় অভিযুক্ত মিনহাজ সিদ্দিকীকে হাসপাতালে আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ৩৩ বছর বয়সী মিনহাজ সিদ্দিকী সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্যারোলের সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, জুন মাসের শুরুতে শারম্যান স্ট্রিটের একটি বাসভবনে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের তদন্তে গেলে বাফেলো পুলিশ বিভাগের সদস্যরা মিনহাজ সিদ্দিকীকে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনায় নয় বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাফেলো পুলিশ কর্মকর্তা মার্ক হার্স্ট ছয়বার গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ইরি কাউন্টি মেডিকেল সেন্টারে (ECMC) ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ইরি কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি মাইক কীন জানান, তার দপ্তর পুলিশ-সংশ্লিষ্ট এই গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তদন্ত শেষে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের গুলি চালানোর পদক্ষেপ আইনসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত ছিল।
মাইক কীন বলেন, “আমাদের দপ্তর এই অফিসার-সংশ্লিষ্ট গুলির ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করেছে। আমরা নির্ধারণ করেছি যে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ এবং শক্তি প্রয়োগ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যথাযথ ও আইনসম্মত ছিল।” লিশের পাল্টা গুলিতে আহত হওয়ার পর মিনহাজ সিদ্দিকীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়।
বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ জুলাই তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে। সারম্যান স্ট্রিটের এই ঘটনা পশ্চিম নিউইয়র্কজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পারিবারিক সহিংসতা, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।