ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা আয়োজন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদে এই বৈঠক ঘিরে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বৈঠকের স্থান পর্যন্ত ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদলকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আনা-নেওয়া করা হয়। তবে এত আয়োজন শেষ পর্যন্ত কোনো ফল বয়ে আনতে পারেনি।
টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনায় অংশ নেন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। বৈঠকের ফাঁকে তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তবুও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অনেকটাই ব্যর্থ করে দিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান আপত্তি ও শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল। তবে সেই শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায় ইরান। ফলে সম্ভাবনাময় এই শান্তি উদ্যোগ চূড়ান্তভাবে ভেস্তে যায়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার পর এক ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অনড় অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সেই শর্তে সম্মত হয়নি। তার ভাষায়, “আমরা এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। “২১ ঘণ্টা ধরে আমরা আলোচনা চালিয়ে গেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি,”—বলেন ভ্যান্স।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এতে করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ইরানও এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আলোচনাকে ‘নিবিড়’ বলে উল্লেখ করলেও এর ব্যর্থতার দায় ওয়াশিংটনের ওপর চাপান।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ মেনে নিতে হবে। আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান উত্তেজনা নিরসনের পথ খোঁজা।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।