ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিবাসী গ্রেপ্তারে আইসের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান

Federal agents in fatigues gather near the scene of 26th Street West and Nicollet Avenue, where federal agents shot and killed a 37-year-old man Saturday, Jan. 24, 2026, the third shooting in as many weeks. (Photo by Nicole Neri/Minnesota Reformer)

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিবাসী গ্রেপ্তারের ঘটনায় আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বিচারক বেরিল হাওয়েল রায় দিয়েছেন, আদালতের পূর্বের নির্দেশনা সত্ত্বেও ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এখনও যথাযথভাবে আইন মেনে চলছে না। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান নতুন করে আইনি বিতর্কের মুখে পড়েছে।

বিচারক হাওয়েল জানান, গত ডিসেম্বরে দেওয়া আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল— কোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করার আগে আইস কর্মকর্তাদের নিশ্চিত হতে হবে যে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ওয়ারেন্ট সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেছে, আইস কর্মকর্তারা সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্সের একটি নির্দেশনা অনুসরণ করে “পালিয়ে যেতে পারে” এমন সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে আটক করছেন।

৪৫ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক বলেন, শুধুমাত্র “সম্ভাব্য পালিয়ে যাওয়া”র আশঙ্কা যথেষ্ট নয়। কোনো ব্যক্তির পারিবারিক সম্পর্ক, কর্মসংস্থান, সমাজের সঙ্গে সংযোগ এবং কতদিন ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন— এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। আদালতের মতে, বর্তমান নির্দেশনা সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই মামলাটি করেছে অভিবাসী অধিকার সংগঠন CASA এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও আইস ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মামলায় অন্তত ৩৩টি ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যেখানে মানুষ হঠাৎ আটক হওয়ার পর তাদের পরিবার জানতেই পারেনি তারা কোথায় আছেন।

ACLU-র আইনজীবী আদিতি শাহ বলেন, আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যদিকে CASA-র ডেপুটি লিগ্যাল ডিরেক্টর শানা খাদার বলেন, অনেক অভিবাসী সকালে কাজে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেন না। পরিবারের সদস্যরা দিনের পর দিন খোঁজ পান না, যা মানবিকভাবে অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে।

তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) দাবি করেছে, আইস সংবিধানসম্মত ক্ষমতার মধ্যেই কাজ করছে। সংস্থাটির বক্তব্য, কর্মকর্তারা “যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ” এবং “সম্ভাব্য কারণ” এর ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করছেন এবং সুপ্রিম কোর্ট আগেও এসব পদ্ধতির বৈধতা দিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার নীতিমালায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

Related posts

অমানবিক অবস্থার অভিযোগে শিকাগো অভিবাসন কেন্দ্রের উন্নয়নে আদালতের নির্দেশ

EAD স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল করেছে USCIS

জার্মানির অপরচুনিটি কার্ড: কাজ ও বসবাসের নতুন সুযোগ