সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। তাদের এই ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বাগত জানাতে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় হাজারো উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্যে দলটিকে বরণ করে নেওয়া হয় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
দলকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর কর্মকর্তারাও। বিমানবন্দরে খেলোয়াড়দের হাতে ফুলের তোড়া ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয় এবং উচ্ছ্বাসে চারদিকে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
দলকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটার নেওয়া হয়, যেখানে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো পথজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ—নাচ, গান, পতাকা উড়ানো ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এম্ফিথিয়েটারে পৌঁছায় দল। প্রথমে প্রবেশ করেন কোচ মার্ক কক্স, তার পেছনে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ট্রফি উঁচিয়ে ধরে। গুরুত্বপূর্ণ সেভ করা গোলরক্ষক ও টুর্নামেন্ট সেরা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিনও উপস্থিত ছিলেন।

চোটের কারণে গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে পড়া ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান ক্র্যাচে ভর দিয়ে সংবর্ধনায় উপস্থিত হলে সহপাঠীরা তাকে আবেগঘনভাবে জড়িয়ে ধরেন। জাতীয় সঙ্গীতের পর বড় পর্দায় দেখানো হয় মালদ্বীপে শিরোপা জয়ের মুহূর্ত। অধিনায়ক মিঠু বলেন, “এই ট্রফি শুধু সমর্থকদের জন্য।”
কোচ মার্ক কক্স বলেন, “আমার হৃদয় বাঙালি। এই দলের খেলোয়াড়রা ১৯৭১-এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খেলেছে। আমরা ভবিষ্যতেও এমন সাফল্য এনে দেব।”
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, “সমর্থকরা আমাদের ১২তম খেলোয়াড়। এটি শুধু শুরু। আরও ট্রফি জয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।”
উল্লেখ্য, মালদ্বীপের রাজধানী মালে শুক্রবার টাইব্রেকারে ভারতকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়ন হয়। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের যুবারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “এই শিরোপা বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায় রচনা করেছে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে থাকবে।”