54
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে ক্রীড়াঙ্গনের বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার ভোরে ঢাকায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক ও ক্রীড়া লেখক—সব পরিচয়েই মোস্তফা কামাল ছিলেন এক অনন্য নাম। ষাটের দশকে ঢাকার ক্রীড়াঙ্গনে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। ফুটবলে শুরু হলেও ভলিবলেই গড়ে ওঠে তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়।
১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবলে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেন মোস্তফা কামাল। এরপর ১৯৬৬ সালে যোগ দেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। সাদা-কালো জার্সিতে চার বছরের ক্যারিয়ারে দু’বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের আগা খান গোল্ডকাপে মোহামেডানের হয়ে মাঠে নামার সময় তার সতীর্থ ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, তোরাব আলী ও বশীর-জহিরুল হকের মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা। ফুটবলের পাশাপাশি ভলিবল কোর্টেও ছিলেন সমান দাপুটে। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ভলিবল দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন মোস্তফা কামাল। ১৯৬৮ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কত্বও করেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ভলিবল কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংগঠক হিসেবেও ছিল তার সুদীর্ঘ অবদান। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটি, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির অন্যতম সিনিয়র সদস্য এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) আজীবন সদস্য হিসেবে সাংবাদিকদের কাছেও ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও আপনজন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অমায়িক, সদালাপী ও সাদামনের মানুষ—যার কারণে সব বয়সের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। মোস্তফা কামালের প্রথম জানাজা রোববার বাদ জোহর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস শপিং মল জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর আড়াইটায় ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ক্রীড়াঙ্গনের এই সব্যসাচী মানুষের প্রয়াণে দেশের খেলাধুলা হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে।