ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর চরম সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বিদেশে অবস্থান করে দল পরিচালনা করা সম্ভব নয়—দলকে টিকিয়ে রাখতে শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরে আসা জরুরি।
তৃণমূলের অনেক নেতার ধারণা ছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা এলাকায় ফিরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ঢাকার বাইরের এক উপজেলা পর্যায়ের নেতা (ছদ্মনাম আরিফুল ইসলাম) বলেন, বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে তারা আশাবাদী ছিলেন যে কোনো দল নিষিদ্ধ করা হবে না এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকেই সাধারণ ভোটারদের বিএনপিকে সমর্থন দিতে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং আগের মতোই বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় খোলার চেষ্টা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। হামলার মুখে কার্যালয়গুলো আবার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে থেকে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
তৃণমূল নেতাদের মতে, এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে চলাফেরা সম্ভব হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের নামে মামলা আছে বা যারা পদধারী নেতা, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন।
মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে না থাকলে কর্মীদের সংগঠিত করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকলেও শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।
তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেছেন, নেতারা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছেন এবং দেশের ভেতরেই আন্দোলন চলছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইন এবং নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরিস্থিতি রাজনৈতিক কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনি ও রাজনৈতিক বাধার কারণে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।