প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে টানা ৩৮ দিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি দিয়ে একটি আল্টিমেটাম দেন, যার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান এই কঠোর অবস্থান নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আলোচনা বন্ধ করে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সামরিক চাপ বা বিমান হামলার মুখে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। এর ফলে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা বা চুক্তির পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান, কোম, ইসফাহান, খোররামাবাদ ও শিরাজসহ একাধিক শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, গত সপ্তাহেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সীমিত যোগাযোগ চলছিল। ওই চ্যানেলের মাধ্যমে কাতার থেকে এলএনজিবাহী দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আল্টিমেটামের পর ইরান এখন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও আলোচনার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। একজন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির প্রতি নিজেদের অনমনীয় অবস্থান জানাতেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও সরাসরি আলোচনা বন্ধ হলেও পরোক্ষ যোগাযোগের কিছু পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করে। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কমে গিয়ে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।