বাফেলো সিটিতে শীত মৌসুমে তুষারপাতের পর সড়ক পরিষ্কারের কার্যক্রম আরও উন্নত করতে নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি চালু করছে নগর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার সরু রাস্তা, ডেড-এন্ড সড়ক এবং মাঝখানে বিভাজক থাকা রাস্তাগুলো থেকে দ্রুত স্নো সরাতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার শহরের ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করেন বাফেলোর মেয়র শন রায়ান। তিনি বলেন, নগরবাসীর মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তুষারপাতের কারণে যেন কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য সড়ক পরিষ্কারের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেটের আওতায় শহর কর্তৃপক্ষ সাতটি ছোট আকারের জন ডিয়ার ট্রাক্টর কিনেছে। এসব ট্রাক্টরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে তুষার সরানোর বিশেষ ব্লোয়ার যন্ত্র। বড় তুষার পরিষ্কারক গাড়ি যেসব সরু রাস্তায় সহজে চলাচল বা ঘোরাতে পারে না, সেখানে নতুন ট্রাক্টরগুলো ব্যবহার করা হবে। মেয়র শন রায়ান বলেন, আগে অনেক আবাসিক সড়কে বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো। তাই রাস্তার আকার ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এর ফলে কর্মীরা আরও সহজে দুর্গম ও সংকীর্ণ সড়ক পরিষ্কার করতে পারবেন।
এ ছাড়া স্নো পরিষ্কারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে উন্নত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করছে নগর কর্তৃপক্ষ। রিয়েল-টাইম গাড়ির অবস্থান ও ডিজিটাল ম্যাপিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন সড়কে কখন স্নো পরিষ্কার করা হয়েছে, তা আরও নির্ভুলভাবে জানা যাবে। গণপূর্ত বিভাগের (DPW) কর্মীরা গাড়ির ভেতরে থাকা কম্পিউটার ব্যবস্থার মাধ্যমে পরবর্তী কাজের নির্দেশনা ও রাস্তার রুট জানতে পারবেন। ফলে কাগজের মানচিত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত অনলাইন ম্যাপেও সড়ক পরিষ্কারের সর্বশেষ তথ্য আরও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
সড়কে অবৈধভাবে পার্ক করা গাড়ির কারণে স্নো পরিষ্কারে যে বাধা সৃষ্টি হয়, তা দূর করতেও উদ্যোগ নিয়েছে শহরের পার্কিং বিভাগ। এ জন্য কর্মী ও টো-ট্রাকের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তুষার পরিষ্কারক গাড়ির চালকেরা রাস্তা আটকে রাখা যানবাহনের তথ্য দ্রুত পার্কিং বিভাগকে জানাতে পারবেন। প্রয়োজনে ছোট আকারের টো-ট্রাক ব্যবহার করে গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হবে।
মেয়র রায়ান বলেন, একটি রাস্তার প্রবেশমুখে অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করা থাকলে পুরো সড়ক পরিষ্কারের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নতুন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও জনবল বাড়ানো হয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, প্রতিটি স্নো শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহরের সব আবাসিক সড়কে অন্তত একবার তুষার পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করা। তবে অতিরিক্ত তুষারপাত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং রাস্তা আটকে রাখা যানবাহনের কারণে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এবারের শীত মৌসুমে বাফেলোর সড়ক পরিষেবা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন।